বঙ্গোপসাগরের মোহনা ও প্রায় ৯০ কিলোমিটারজুড়ে পায়রা নদীতে অবাধে অবৈধ জাল ব্যবহার করে রেণু পোনা নিধনের ফলে দেশের মৎস্যসম্পদে বিপর্যয় নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এভাবে নির্বিচারে পোনা ধ্বংস হওয়ায় প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন জেলেদের অভিযোগ, মৎস্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একাংশ অবৈধ সুবিধা নিয়ে এ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তালতলী উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে রেণু পোনার অবৈধ আড়ত। চরপাড়া, ফকিরহাট, নিশানবাড়িয়া, পচাঁকোড়ালিয়াসহ অন্তত শতাধিক স্থানে এ ধরনের আড়তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
জেলেদের ভাষ্য, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাগর ও পায়রা নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়বে।
জানা গেছে, ফাল্গুনের মাঝামাঝি থেকে জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে চিংড়ি ও বাগদা মা-মাছ সাগরের মোহনা এবং নদ-নদীর মিঠা পানিতে রেণু পোনা ছাড়ে। বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব পোনা মিঠা পানিতে অবস্থান করে। এই সময়েই জেলেরা নিষিদ্ধ মশারি জাল ব্যবহার করে ব্যাপক হারে পোনা শিকার করেন। তালতলী উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার জেলে পরিবার এ কাজে জড়িত বলে জানা গেছে।
প্রতিদিন প্রায় এক কোটি রেণু পোনা আহরণ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় রেণু পোনার সঙ্গে অন্তত ১০ গুণ বেশি অন্যান্য প্রজাতির পোনাও ধ্বংস হচ্ছে, যা সামগ্রিক মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
দাদন ব্যবসায়ীরা জেলেদের কাছ থেকে প্রতি ১০০টি চিংড়ি ও বাগদা রেণু পোনা ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় কিনে খুলনা, বাগেরহাট ও যশোরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ঘের মালিকদের কাছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। গত আড়াই মাসে এভাবে কয়েকশ কোটি টাকার রেণু পোনা আহরণ ও বাণিজ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, দাদন ব্যবসায়ীরা স্থানীয় মৎস্য অফিস ও নৌপুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জোয়ার-ভাটার সময় অনুযায়ী জেলেদের পরিবার-পরিজনসহ এ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কিছু মাঠকর্মীকে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এর ফলে তারা নির্বিঘ্নে রেণু পোনা সংগ্রহ ও পরিবহন করতে পারছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও অজানা নয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনকে বারবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া যায়নি।
এছাড়া স্থানীয় কিছু সাংবাদিক সংগঠনকেও নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নারী-পুরুষ ও শিশুরা মশারি জাল ব্যবহার করে রেণু পোনা শিকার করছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় জেলে পরিবারের সবাই এ কাজে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক ও পরিবেশগত উভয় দিক থেকেই উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ মৎস্যসম্পদ ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
কালের সময় মিডিয়া লিমিটেড
৮৯ বিজয় নগর, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম শরণি, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট (৫ম তলা)। ঢাকা-১০০০
নিউজঃ news@kalersomoy.news || বিজ্ঞাপণঃ ads@kalersomoy.news
©২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || kalersomoy.news